মূসক ৬.১ পূরণের নিয়ম: ক্রয় হিসাব ও মিলিয়ে দেখা

মূসক ৬.১ কার জন্য এবং ২১টি কলাম কীভাবে পূরণ করবেন, তা জানুন। চালান, পণ্য ঘোষণা ও মজুদের সঙ্গে ক্রয় হিসাব মিলিয়ে দেখার ধাপও বুঝুন।

Published
Updated
Reading Time
9 min
Topics:
Tax & ComplianceBangladeshMushak 6.1VAT record keepingPurchase registers

মূসক ৬.১ হলো পণ্য বা সেবা প্রক্রিয়াকরণে সম্পৃক্ত নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির ক্রয় হিসাব পুস্তক। এতে ২১টি কলামে উপকরণের প্রারম্ভিক জের, ক্রয়, প্রাপ্য জের, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার এবং সমাপনী জেরের পরিমাণ ও করবিহীন মূল্য রাখা হয়। একই সঙ্গে চালানপত্র বা আমদানির পণ্য ঘোষণা, সরবরাহকারীর পরিচয়, সম্পূরক শুল্ক ও মূসকের তথ্যও নথিভুক্ত হয়। তাই মূসক ৬.১ পূরণের নিয়ম শুধু চালানের মোট টাকা লিখে রাখা নয়, প্রতিটি উপকরণের চলাচল ও মূল্য ধারাবাহিকভাবে মিলিয়ে রাখা।

ফরম বাছাইয়ের আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখুন। পণ্য বা সেবা প্রক্রিয়াকরণে উপকরণ ব্যবহার করলে মূসক ৬.১ প্রযোজ্য। অন্যদিকে, প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া ক্রয় করা পণ্য একই অবস্থায় বিক্রি করার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ক্রয়-বিক্রয় হিসাব পুস্তক মূসক ৬.২.১ প্রাসঙ্গিক। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ধরনের কার্যক্রম থাকলে বাস্তব লেনদেন, নিবন্ধন অবস্থা এবং প্রযোজ্য বিধি ধরে কোন রেকর্ড রাখতে হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।

কলামের কাঠামোর জন্য এনবিআরের সরকারি মূসক ৬.১ ফরম দেখুন। এটি ২০১৯ সালে নির্ধারিত ২১ কলামের ফরম। তবে আমদানি-রেফারেন্সের ভাষা পরে বদলেছে, তাই পুরোনো ফরমের “বিল অব এন্ট্রি” শব্দ দেখে সেই নাম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এই নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর পরিবর্তনসহ ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত প্রাসঙ্গিক বিধিমালা সংশোধনী দেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর কোনো সংশোধনী জারি হয়ে থাকলে কাজের সময় এনবিআরের বর্তমান বিধি ও ফরম সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

অনলাইনে পাওয়া Excel বা পুনর্মুদ্রিত ফরম তারিখ না দেখে ব্যবহার করবেন না। ডাউনলোড করা পাতার কলাম সংখ্যা, আমদানি-রেফারেন্সের নাম এবং বিশেষ দ্রষ্টব্য সরকারি ফরম ও পরবর্তী সংশোধনীর সঙ্গে মেলানো না থাকলে সেটি প্রস্তুতির সহায়কও হতে পারে, আবার পুরোনো কাঠামোর অনুলিপিও হতে পারে।

২১টি কলামকে চারটি কাজের দলে বুঝুন

ফরমের কলামগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়লে মূসক ৬.১ ক্রয় হিসাবের কাঠামো পরিষ্কার হয়। প্রথম অংশে আগের জের, দ্বিতীয় অংশে নতুন ক্রয়, তৃতীয় অংশে মোট প্রাপ্য উপকরণ এবং শেষ অংশে ব্যবহার ও সমাপনী জের থাকে।

প্রারম্ভিক জের, কলাম ১ থেকে ৪: কলাম ১-এ ক্রমিক সংখ্যা এবং ২-এ তারিখ। কলাম ৩-এ দিনের শুরুতে থাকা উপকরণের পরিমাণ ও একক, আর ৪-এ সেই মজুদের মূল্য লিখতে হয়। মূল্য হবে সব ধরনের কর ছাড়া। আগের এন্ট্রির সমাপনী জেরই পরের এন্ট্রির প্রারম্ভিক জের হওয়ার কথা।

ক্রয়কৃত উপকরণ, কলাম ৫ থেকে ১৪:

  • কলাম ৫ ও ৬-এ চালানপত্র বা পণ্য ঘোষণা নম্বর এবং তারিখ।
  • কলাম ৭, ৮ ও ৯-এ বিক্রেতা বা সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা এবং নিবন্ধন, তালিকাভুক্তি বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর। অনিবন্ধিত ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্য কিনলে সরকারি ফরমের বিশেষ দ্রষ্টব্য অনুযায়ী পূর্ণ নাম, ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর রাখতে হয়।
  • কলাম ১০-এ উপকরণের বিবরণ এবং ১১-এ পরিমাণ ও একক।
  • কলাম ১২-এ সব ধরনের কর বাদ দিয়ে ক্রয়মূল্য, ১৩-এ সম্পূরক শুল্ক থাকলে তার পরিমাণ এবং ১৪-এ মূসক। করবিহীন মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও মূসক একত্র করে কলাম ১২-এ লেখা যাবে না।

পুরোনো ফরমে কলাম ৫-এ “বিল অব এন্ট্রি নম্বর” দেখা গেলেও ২০২৫ সালের মূসক বিধিমালা সংশোধনী অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৫ থেকে সেখানে “পণ্য ঘোষণা নম্বর” ব্যবহার করতে হবে। একই সংশোধনী নিবন্ধিত ব্যক্তিকে মূসক ৬.১ ERP সফটওয়্যার সিস্টেমে সংরক্ষণের অনুমতি দিয়েছে।

প্রাপ্য জের, কলাম ১৫ ও ১৬: কলাম ১৫ হলো প্রারম্ভিক পরিমাণ ও ক্রয় পরিমাণের যোগফল, অর্থাৎ কলাম ৩ ও ১১-এর মোট। কলাম ১৬-এ একইভাবে কলাম ৪ ও ১২-এর করবিহীন মূল্য যোগ হয়। সম্পূরক শুল্ক বা মূসক এই জেরের মূল্যের সঙ্গে যোগ করা হয় না।

ব্যবহার, সমাপনী জের ও মন্তব্য, কলাম ১৭ থেকে ২১: কলাম ১৭ ও ১৮-এ পণ্য প্রস্তুত বা প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত উপকরণের পরিমাণ ও করবিহীন মূল্য থাকে। ব্যবহার বাদ দেওয়ার পর কলাম ১৯ ও ২০-এ সমাপনী পরিমাণ ও করবিহীন মূল্য লিখতে হয়। কলাম ২১ মন্তব্যের জন্য, যেখানে নথির সংশোধন, অমিলের ব্যাখ্যা বা প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স ধরে রাখা যায়।

প্রতিটি তথ্য কোন উৎস নথি থেকে নেবেন

দেশীয় ক্রয়ের মূল উৎস হলো চালানপত্র। সেখান থেকে চালান নম্বর ও তারিখ, সরবরাহকারীর পরিচয়, উপকরণের বিবরণ, পরিমাণ, করবিহীন মূল্য, সম্পূরক শুল্ক এবং মূসক আলাদা করে নিন। উৎসে মূসক কর্তন প্রযোজ্য হলে চালানের পাশাপাশি কর্তন সনদ পূরণ ও জমার প্রমাণ যাচাইয়ের নিয়ম ধরে মূসক ৬.৬-এর অঙ্কও মিলিয়ে নিন। কিন্তু চালানের একটি ক্ষেত্র ফাঁকা বা অস্পষ্ট হলে পরিচিত কোনো মান বসিয়ে দেওয়া যাবে না। কোন তথ্যগুলো সংগ্রহ করা দরকার, তার সাধারণ কাঠামো বুককিপিংয়ের জন্য সরবরাহকারী চালানের প্রয়োজনীয় তথ্য (ইংরেজি) নির্দেশিকায়ও দেখা যায়।

আমদানির ক্ষেত্রে কলাম ৫-এ বর্তমান নাম অনুযায়ী পণ্য ঘোষণা নম্বর লিখুন। মূল আমদানি দলিল থেকে নম্বর ও তারিখ হুবহু নিন। পণ্য ঘোষণা থেকে আমদানিকৃত উপকরণের পরিচয় নিয়ে বাণিজ্যিক ইনভয়েস, প্যাকিং তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের পণ্য গ্রহণ রেকর্ডের সঙ্গে পরিমাণ ও বিবরণ মিলিয়ে দেখুন।

সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয় নম্বর চালানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারীর মূল তথ্যতালিকা বা নিবন্ধন-তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত। সংক্ষিপ্ত নাম, বদলে যাওয়া ঠিকানা বা অসম্পূর্ণ বিআইএন থাকলে মূল নিবন্ধন দলিল বা সরবরাহকারীর সংশোধিত তথ্য নিন। অনিবন্ধিত বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর না থাকলে অনুমান বা অস্থায়ী সংখ্যা ব্যবহার না করে ঘাটতিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে পূরণ করুন।

প্রারম্ভিক ও সমাপনী জের আসে মজুদ খতিয়ান থেকে। উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহারের পরিমাণ ও মূল্য আসে উৎপাদনে উপকরণ দেওয়ার নথি, উপকরণের চাহিদাপত্র, ব্যাচভিত্তিক উৎপাদন রেকর্ড বা সমমানের অভ্যন্তরীণ রেকর্ড থেকে। একটি ক্রয় চালান বলে দেয় কী এসেছে, কিন্তু দিনের শুরুতে কত ছিল বা কত উপকরণ উৎপাদনে গেছে তা বলে না। এই দুই তথ্য চালান থেকে বানালে ক্রয় হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুদ চলাচলের সম্পর্ক নষ্ট হয়।

সব নথিতে উপকরণের নাম, একক ও তারিখের কাটঅফ একই ভিত্তিতে রাখুন। চালানে কেজি, গ্রহণ রেকর্ডে বস্তা এবং উৎপাদন রেকর্ডে গ্রাম থাকলে অনুমোদিত রূপান্তর হার লিখিতভাবে ধরে এক এককে হিসাব করুন। মাসের শেষ দিনে গৃহীত পণ্যের চালান আগের বা পরের মাসে নথিভুক্ত হলে গ্রহণের তারিখ, চালানের তারিখ এবং হিসাবের কাটঅফ আলাদাভাবে শনাক্ত করুন।

চালান থেকে রেকর্ড তৈরির ব্যবহারিক ধাপ

প্রথমে হিসাবের সময়কাল ও কাটঅফ তারিখ স্থির করুন। সেই সময়ের চালানপত্র, আমদানির পণ্য ঘোষণা, পণ্য গ্রহণ নথি, সরবরাহকারীর পরিচয়, মজুদ খতিয়ান এবং উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে উপকরণ ব্যবহারের রেকর্ড একত্র করুন। নথিগুলো তারিখ ও রেফারেন্স নম্বর অনুযায়ী সাজালে বাদ পড়া বা একই নথি দুবার আসা শুরুতেই ধরা যায়।

এরপর প্রতিটি উপকরণের জন্য একটি স্থির পরিচয়, বিবরণ ও পরিমাপের একক ব্যবহার করুন। একটি চালানে একাধিক উপকরণ থাকলে প্রতিটির পরিমাণ, করবিহীন মূল্য ও কর আলাদাভাবে নথিভুক্ত করুন। চালানের মোট টাকা একটি সারিতে বসালে কোন উপকরণ কত এসেছে এবং পরে কত ব্যবহৃত হয়েছে তা অনুসরণ করা যায় না। একই চালান নম্বর একাধিক আইটেমের সারিতে থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু একই আইটেম ও একই অঙ্কের পুনরাবৃত্তি হলে সেটি নকল এন্ট্রি কি না পরীক্ষা করুন।

রেকর্ডে তোলার সময় চারটি নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগে:

  1. চালান বা পণ্য ঘোষণা নম্বর আগে লেখা হয়েছে কি না খুঁজুন।
  2. ক্রমিক নম্বর ও তারিখের ধারাবাহিকতায় কোনো ফাঁক আছে কি না দেখুন।
  3. ফেরত, বাতিল বা সংশোধিত নথিকে মূল এন্ট্রির রেফারেন্সসহ আলাদা চিহ্নিত করুন। কোন কর-সমন্বয় প্রযোজ্য তা বর্তমান বিধি ও সমর্থক নথি দেখে নির্ধারণ করুন।
  4. চালানের আইটেম-যোগফল দলিলের মোট করবিহীন মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও মূসকের সঙ্গে আলাদাভাবে মেলে কি না পরীক্ষা করুন।

মূসক ৬.১ এক্সেল ওয়ার্কশিট উৎস নথি সাজানো, আবশ্যিক ঘর ফাঁকা আছে কি না দেখা এবং পরিমাণ ও মূল্যের যোগ-বিয়োগ যাচাইয়ের সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো অনানুষ্ঠানিক টেমপ্লেট নিজে থেকেই সরকারি ফরম নয়। ওয়ার্কশিটে কলাম, বর্তমান “পণ্য ঘোষণা” পরিভাষা এবং বিশেষ দ্রষ্টব্য নির্ধারিত ফরম ও সংশোধনীর সঙ্গে মিলতে হবে।

নিবন্ধিত ব্যক্তি ERP সফটওয়্যার সিস্টেমে রেকর্ড রাখতে পারেন। মাধ্যম বদলালেও ২১ কলামের তথ্য, প্রতিটি অঙ্কের উৎস নথি এবং উপকরণের চলাচল যাচাই করার দায় বদলায় না। সফটওয়্যারের মোট অঙ্ক গ্রহণ করার আগে অন্তত একটি নমুনা চালান থেকে আইটেম, করবিহীন মূল্য, কর এবং মজুদ চলাচল পর্যন্ত অনুসরণ করে দেখুন।

পরিমাণ ও মূল্য মিলিয়ে দেখার একটি উদাহরণ

ধরা যাক, একটি উপকরণের দিনের প্রারম্ভিক জের ১০০ একক এবং করবিহীন মূল্য ১০,০০০ টাকা। সেদিন ৪০ একক উপকরণ ৪,৮০০ টাকা করবিহীন মূল্যে কেনা হলো। তখন প্রাপ্য জের হবে:

  • পরিমাণ: ১০০ + ৪০ = ১৪০ একক
  • মূল্য: ১০,০০০ + ৪,৮০০ = ১৪,৮০০ টাকা

এই ১৪০ একক থেকে উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে ৯০ একক ব্যবহার হয়েছে এবং ব্যবহৃত উপকরণের মূল্য ৯,৫০০ টাকা। সমাপনী জের হবে:

  • পরিমাণ: ১৪০ - ৯০ = ৫০ একক
  • মূল্য: ১৪,৮০০ - ৯,৫০০ = ৫,৩০০ টাকা

ফরমে পরিমাণের পরীক্ষা দুটি ধাপে চলে: প্রারম্ভিক জের + ক্রয় = প্রাপ্য জের, তারপর প্রাপ্য জের - ব্যবহার = সমাপনী জের। মূল্যের ক্ষেত্রেও একই গাণিতিক পরীক্ষা প্রযোজ্য। তবে ব্যবহারের ৯,৫০০ টাকা শুধু পরিমাণের অনুপাতে বানানো সংখ্যা নয়। প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ও প্রযোজ্য মজুদ-হিসাবনীতি অনুযায়ী উৎপাদন ও মজুদ রেকর্ড থেকে ব্যবহৃত উপকরণের মূল্য আসতে হবে।

সমাপনী পরিমাণ ঋণাত্মক হলে সাধারণত ক্রয় বাদ পড়েছে, ব্যবহার বেশি লেখা হয়েছে, তারিখের কাটঅফ ভুল হয়েছে বা একক রূপান্তরে সমস্যা আছে। পরিমাণ মিললেও মূল্য না মিললে করসহ অঙ্ককে করবিহীন মূল্য হিসেবে নেওয়া, ব্যবহারের মূল্যায়নে অসামঞ্জস্য বা সংশোধিত চালান বাদ পড়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করুন। কেজি ও গ্রাম, পিস ও কার্টন বা অন্য ভিন্ন একক একই ধারায় মেশালে পরিমাণের যোগফল অর্থহীন হয়ে যায়। অমিল ঢাকতে ক্রয় বা ব্যবহারের ঘর বদলানোর বদলে যে উৎস নথি ভুল বা অসম্পূর্ণ, সেটি শনাক্ত করতে হবে।

অমিল পেলে কোথায় ফিরে যাবেন

অমিলের ধরনই বলে দেয় কোন নথি আগে দেখতে হবে। চালানপত্র বা পণ্য ঘোষণা নম্বর না মিললে মূল দলিল, পণ্য গ্রহণ রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট এন্ট্রির তারিখ পাশাপাশি রাখুন। সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা বা পরিচয় নম্বরে বিরোধ থাকলে সরবরাহকারীর মূল তথ্যতালিকা, নিবন্ধন সনদ বা হালনাগাদ তথ্য দেখুন। নিজের রেকর্ডে পরিচিত মনে হওয়া মান বসিয়ে অমিল মুছে ফেলবেন না।

পরিমাণের অমিলে তিনটি স্তর পরীক্ষা করুন: গ্রহণ করা পরিমাণ, মজুদে তোলা পরিমাণ এবং উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে দেওয়া পরিমাণ। একই উপকরণ ভিন্ন এককে লেখা হলে অনুমোদিত রূপান্তর হার প্রয়োগ হয়েছে কি না দেখুন। ব্যবহারের পরিমাণ উৎপাদন রেকর্ডের চেয়ে বেশি বা কম হলে ব্যাচভিত্তিক উৎপাদন রেকর্ড, উপকরণের চাহিদাপত্র এবং ফেরত আসা অব্যবহৃত উপকরণের নথি পরীক্ষা করুন।

মূল্যের অমিল হলে চালানের করবিহীন মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও মূসক তিনটি আলাদা অঙ্ক হিসেবে পুনরায় তুলুন। মূসকসহ মোট মূল্যকে কলাম ১২-এ বসালে ক্রয়মূল্য ও কর দুবার গণনা হতে পারে। সংশোধিত চালান, মূল্য সমন্বয়পত্র বা ফেরতের দলিল থাকলে মূল রেফারেন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে যাচাই করুন এবং প্রযোজ্য কর-ব্যবস্থা বর্তমান বিধি থেকে নির্ধারণ করুন। সাধারণ অনুসন্ধান-পদ্ধতির জন্য চালান মিলিয়ে দেখা ও অমিল খোঁজার নির্দেশিকা (ইংরেজি) ব্যবহার করা যায়।

মাস বা করমেয়াদ শেষে ক্রয় হিসাবের রেফারেন্স নম্বর ও কাটঅফ মজুদ খতিয়ান, উৎপাদন রেকর্ড এবং রিটার্ন প্রস্তুতির হিসাবপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। অমিলের কারণ, সংশোধনের তারিখ এবং সমর্থক নথির রেফারেন্স মন্তব্যের ঘর বা পৃথক নিয়ন্ত্রণ রেকর্ডে রাখুন, যাতে পরে পরিবর্তনের উৎস বোঝা যায়।

মূসক ৬.১-এর ২১টি কলাম পূর্ণ হওয়া এবং জের গাণিতিকভাবে মেলা রেকর্ডের পূর্ণতা ও সামঞ্জস্য দেখায়। এটি নিজে থেকে উপকরণ কর রেয়াতের অধিকার প্রমাণ করে না। রেয়াতের যোগ্যতা, দাবি করার সময়সীমা, অযোগ্যতা এবং নথি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্যকর আইন, বিধি ও সর্বশেষ সংশোধনী দেখে আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

Invoice Data Extraction

Extract data from invoices and financial documents to structured spreadsheets. 50 free pages every month, no credit card required.

Try It Free
Continue Reading